কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির রফতানি বন্ধ থাকায় বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ রয়েছে। তবে বাজারে বিদ্যমান এ অস্থিরতাকে ‘খুবই স্বল্পমেয়াদি’ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার গ্লোবাল। দীর্ঘমেয়াদে বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দামের স্থিতিশীলতা ও সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি টোকিওতে আয়োজিত ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরামে অংশ নিয়ে ভেঞ্চার গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক সাবেল এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টিকে খুব স্বল্পমেয়াদি হিসেবে দেখছি। বাজারে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা এবং নতুন সরবরাহ উৎস যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। দীর্ঘমেয়াদে এলএনজির দাম স্থিতিশীল থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে যে উত্তেজনা চলছে এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রফতানি ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে কাতারএনার্জির এলএনজি রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন এ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
সরবরাহ সংকটের মধ্যেও গত সপ্তাহে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কিছুটা কমেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিলে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় দাম ছিল ১৯ ডলার ৫০ সেন্ট, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২২ ডলার ৫০ সেন্ট, এটি ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মে মাসে সরবরাহের জন্য এলএনজির গড় দাম ধরা হয়েছে ১৮ ডলার ৯০ সেন্ট। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অস্থিরতা সত্ত্বেও জ্বালানি পণ্যটির দামের এ পতন এটাই প্রমাণ করে যে বাজার দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে।
বাজারে অস্থিরতা কাটাতে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার গ্লোবাল। মাইক সাবেল জানান, লুইজিয়ানায় প্রতিষ্ঠানটির সিপি২ এলএনজি প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১ কোটি ৪০ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপে আরো এক কোটি টন সক্ষমতা যুক্ত হবে।
তিনি আশা করছেন, আগামী বছরে এ প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ থেকে উৎপাদন শুরু হবে, যা বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কমাতে দ্রুত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অঞ্চলের নতুন প্রকল্পগুলো বাজারে সরবরাহ বাড়ালে অস্থিরতা দ্রুত কেটে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে বাজারে নতুন সরবরাহ যুক্ত হওয়া এবং পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি হওয়াই স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছে ভেঞ্চার গ্লোবাল।